ঢাকা, বুধবার, ১২ আষাঢ় ১৪২৬, ২৬ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

পা দিয়ে স্বপ্নপূরণ

শাহিদুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-২৫ ৩:০২:৩৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-২৫ ৩:০২:৩৮ পিএম
Walton AC 10% Discount

শাহিদুল ইসলাম: কথায় বলে, মানুষের এক অঙ্গ যখন অকেজো হয় তখন অন্য অঙ্গগুলো দ্বিগুণ কর্মক্ষম হয়ে ওঠে। এটা শুধু কথার কথা নয়, বিজ্ঞানও এই আপ্তবাক্য স্বীকার করে। আর দুনিয়ায় কিছু মানুষ জন্মে এই আপ্তবাক্যকে কাজে পরিণত করতে। মেক্সিকোর আদ্রিয়ানা মেসিয়াস তেমনই একজন নারী।

৫১ বছর বয়সি আদ্রিয়ানার জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। ফলে হাতের কাজগুলো তাকে করতে হয়েছে পা দিয়ে। আর এভাবেই তিনি হাতের বিকল্প হিসেবে পা ব্যবহারে হয়ে উঠেছেন বিশেষ পারদর্শী। পা দিয়ে লিখে তিনি স্কুল কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ভর্তি হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। আইনের মতো কঠিন বিষয়ে নিয়েছেন স্নাতক ডিগ্রি। নিজের ঘর গৃহস্থালীর কাজ আর তিন বছরের মেয়েকেও মানুষ করছেন ওই পা দিয়েই।

তবে এত কিছু পা দিয়ে করলেও আদ্রিয়ানার মনে একটা জমাট বাধা কষ্ট ছিল। সেটা হলো চাকরি না পাওয়ার কষ্ট। স্নাতক শেষ করে একটি চাকরির জন্য তিনি আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু হাত না থাকায় কোথাও চাকরি পাননি তিনি। 



এই না পাওয়া থেকেই একটি ভীষণ জেদ চাপে তার মনে। তিনি পণ করেন—এমন কিছু করে দেখাবেন যেটা অনেক সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ হাত দিয়েও করতে পারে না। শুরু করেন বই লেখা। আর বেছে নেন ডিজাইনের কাজ। নিজের মনে জেদের যে আগুন তিনি জ্বালিয়েছিলেন তাতে ভর করে আদ্রিয়ানা বর্তমানে দুটোতেই সফল। ইতোমধ্যে তিনটি বই বের হয়েছে তার। আর গত এপ্রিলে মেক্সিকো ফ্যাশন উইকে পা দিয়ে তার ডিজাইন করা পোশাকের একটি বড়সড় প্রদর্শনী হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে মডেলদের পাশাপাশি তিনজন শারীরিক প্রতিবন্ধীও অংশ নেন।

এএফপিকে আদ্রিয়ানা বলেন, ‘দুইহাত ছাড়া আমার বিশ্ববিদ্যালয় ও চাকরি খোঁজার দিনগুলো ছিল সত্যিই হতাশাজনক। কেউ যখন আমাকে চাকরিতে নিতে চাইতো না তখন আমি ভেঙে পড়েছিলাম। তবে আমি ওই সব ঘটনার কাছে কৃতজ্ঞ যা আমাকে পা দিয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচতে শিখিয়েছে।’



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ মে ২০১৯/মারুফ/তারা

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge