ঢাকা, শনিবার, ২ ভাদ্র ১৪২৫, ১৮ আগস্ট ২০১৮
Risingbd
শোকাবহ অগাস্ট
সর্বশেষ:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ অব্যাহত রাখতে হবে

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৫ ৮:১৬:১৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০১-১৫ ৮:১৬:১৭ পিএম

মিয়ানমার বাহিনীর হত্যা, নির্যাতন নিপীড়ন থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। বিশ্বসম্প্রদায় বাংলাদেশের কাজের প্রশংসা করেছে। আর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। এ জন্য বংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরও করেছে তারা। কিন্তু বিভিন্ন আজুহাতে তাদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার পাঁয়তারা করছে দেশটি। জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর সূত্রে সম্প্রতি তেমন আশঙ্কার কথা প্রকাশ করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে গত বছরের ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যে চুক্তি সই হয়েছে তার আলোকে দুদেশের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ। বস্তুতঃ রোহিঙ্গা ইস্যুতে যখন আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে শুরু করেছিল, তখন মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে একটি প্রত্যাবাসন চুক্তি করে।

কিন্তু চুক্তির পরও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আসা বন্ধ হয়নি। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, দায়সারা প্রত্যাবাসন চুক্তিকে মিয়ানমারের সেনারা মোটেই গুরুত্ব দিচ্ছে না। দেশটির সেনাদের নির্যাতন অব্যাহত থাকায় পালিয়ে তারা বাংলাদেশে চলে আসছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রত্যাবাসন চুক্তির পর ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ফাঁকা গুলিবর্ষণসহ নানা কৌশলে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ, ইউএনএইচসিআর ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নানা প্রক্রিয়া ও কাজে যুক্ত করলেও মিয়ানমার সে ধরনের কিছু করছে না বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে রাখাইন রাজ্যে প্রবেশ ও কাজ করার অনুমতি দিচ্ছে না। চুক্তির মাধ্যমে মিয়ানমার আন্তর্জাতিক মহলকে বোঝানোর চেষ্টা করছে, বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করেই তারা সমস্যার সমাধান করছে। অথচ রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়টিতে তাদের কার্যকর তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কতটুকু সফল হবে, চুক্তির পর তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন চুক্তি বিশ্লেষণ করে এর যে দুর্বলতার কথা তুলে ধরে, তার মধ্যে রয়েছে সব শরণার্থী ফেরত নেওয়ার বিষয়টি না থাকা, প্রত্যাবাসন শুরুর অপর্যাপ্ত সময়সীমা, শরণার্থী প্রত্যাবাসনে ইউএনএইচসিআরের যুক্ততার বিষয়টি স্পষ্ট না করা ইত্যাদি। অথচ রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া সব রোহিঙ্গার রাখাইনে নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও বসবাস নিশ্চিত করা।

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠিয়ে কোথায় রাখা হবে তা নিশ্চিত নয়। রাখাইনের কিছু এলাকায় রোহিঙ্গাদের সব ধরনের নাগরিক সুবিধার ব্যবস্থা না করে যেভাবে রাখা হয়েছে তা অনেকটা বন্দিদশার মতো। ফেরত নেওয়া রোহিঙ্গাদের এভাবে নির্দিষ্ট এলাকায় আটকে রাখা হলে তা হবে চরম অমানবিক। এ ছাড়া রোহিঙ্গারা সেখানে গিয়ে তাদের ঘরবাড়ি ও ভূমির অধিকার পাবেন কি না তা-ও নিশ্চিত নয়। বাংলাদেশকে এই বিষয়গুলো জোরের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে।

বস্তুতঃ রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করলে কিংবা এ বিষয়ে দেশটিকে বাধ্য করতে না পারলে শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো কঠিন হবে। চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রাখতে হবে।  দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর চাপ অব্যাহত রাখতে না পারলে খুব কমসংখ্যক রোহিঙ্গাকে হয়তো পাঠানো সম্ভব হবে। আর রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে তার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে সব পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৫ জানুয়ারি ২০১৮/আলী নওশের

Walton Laptop
 
     
Walton