ঢাকা, বুধবার, ৯ কার্তিক ১৪২৫, ২৪ অক্টোবর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

যে কোনো মূল্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করতে হবে

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৭-১২-১৯ ৯:৫৭:১৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-১৯ ১০:০৬:৩৯ পিএম

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, এসএসসি-এইচএসসি, পিইসি-জেএসসির পর এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হচ্ছে? সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী বরগুনার বেতাগী উপজেলায় একযোগে ১৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর গণিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে মুন্সীগঞ্জে ১১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলা পরীক্ষা স্থগিত করে জেলা প্রশাসন।

মুন্সীগঞ্জে পরীক্ষার আগের রাতে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠে এবং এর নমুনা জেলা প্রশাসকের ই-মেইলে পাঠানো হয়। যে কারণে পরীক্ষা স্থগিত করার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। রাজশাহীর বাঘায় চতুর্থ শ্রেণির প্রশ্নপত্র সকালেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যায়। পরে বিকেলে পরীক্ষা শুরুর পর দেখা যায়, সকালে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে মূল প্রশ্নপত্র। নাটোর সদর উপজেলার আগদিঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম ও চতুর্থ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে।

দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নানা উদ্যোগ স্বত্ত্বেও এই প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো যাচ্ছে না। প্রশ্নফাঁসের এ রোগ কতটা মহামারী আকার ধারণ করেছে তা বোঝা যাচ্ছে যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হচ্ছে। এতে বিষ্ময়ে হতবাক হতে হয় আমাদের। কোথায় চলেছি আমরা? দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আমরা আসলে কোথায় নিয়ে যাচ্ছি? অধঃপতন কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকলে এ অবস্থা হতে পারে সেটা সহজেই অনুমেয়। অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে যে, যেখানে বা যে স্তরের পরীক্ষাই হোক না কেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া যেন অবধারিত বিষয়।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দুর্বৃত্তদের সঙ্গে এখন শিক্ষকদেরও সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ভাবলে অবাক হতে হয়, আমাদের নীতি, নৈতিকতা ও বিবেকবোধ আজ কোন্ স্তরে নেমে গেছে।  প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে দেশের শিক্ষকরাও যুক্ত! প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে আমরা মূলত জাতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই ‘সংস্কৃতির’ যদি অবসান না ঘটে, তবে এজন্য চরম মূল্য দিতে হবে জাতিকে।  সর্বনাশ ঘটবে শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের।

উদ্বেগের বিষয় হল, প্রশ্ন ফাঁসের মতো একটি দুষ্কর্ম দীর্ঘদিন ধরে সংঘটিত হলেও তা রোধ করা যাচ্ছে না। রীতিমতো সিন্ডিকেট গঠন করে দুষ্কৃতকারীরা একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে প্রশ্নফাঁসকারী একাধিক চক্র বিরাজমান। তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে। শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্নফাঁসের জন্য শিক্ষকদের দায়ী করলেও সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ সরকারি প্রেস (বিজি প্রেস), ট্রেজারি ও পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো প্রশ্ন ফাঁসের উৎস। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এ অপকর্মটি করে থাকেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কোচিং সেন্টার, প্রতারক শিক্ষক ও বিভিন্ন অপরাধী চক্র।

সরকার ইতিমধ্যে ‘বিজি প্রেস থেকে প্রশ্ন ফাঁস রোধে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে একটি উৎস বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়, বাকি উৎসগুলো বন্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। যে কোনো মূল্যে প্রশ্ন ফাঁস রোধ করতে হবে। যদিও প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধানসহ আইন রয়েছে। কিন্তু সেই আইনে কারো সাজা হয়েছে এমন নজির পাওয়া দুষ্কর। আর যত ব্যবস্থার কথাই বলা হোক না কেন অপরাধীর শাস্তি না হলে কোনো অবস্থাতেই অপরাধ বন্ধ করা যাবে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের প্রতাশা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করে জাতির অধঃপতন রোধ করবেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ ডিসেম্বর ২০১৭/আলী নওশের

Walton Laptop
 
     
Walton