ঢাকা, শনিবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৬ মে ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:
মিয়ানমারের প্রতিশ্রুতি

সময় ক্ষেপণের কৌশল যেন না হয়

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৬ ৯:১৯:৩৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০২-১৫ ১২:৫৩:৩৪ পিএম

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে মিয়ানমার সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মিয়ানমার সফরে গেলে তার সঙ্গে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের কথা বলা হয়েছে। বৈঠকে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সম্মতির কথাও জানিয়েছেন মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় জাতিসংঘে উত্থাপিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচ দফা প্রস্তাব, সেই সঙ্গে কফি আনান কমিশন বাস্তবায়নে গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডতে আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির বৈঠকেও রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সু চি বলেছেন, বাংলাদেশে মিয়ানমারের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফিরিয়ে নিতে কাজ শুরু করেছে তার সরকার। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে তার সরকার কাজ করছে বলেও জানান সু চি। দেশে ফিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমার এখন ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। এখন শুধু তাদের পক্ষ থেকে ফলপ্রসূ উদ্যোগের অপেক্ষা করতে হবে।

রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে, তা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে রাখাইনে সহিংসতার দু’মাস পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আসা বন্ধ হয়নি। এক্ষেত্রে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিক থাকবে সেটিই এখন দেখার বিষয়। এ অবস্থায় আমরা মনে করি রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক চেষ্টার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উদ্যোগও অব্যাহত রাখতে হবে।

রাখাইনে রোহিঙ্গারা দশকের পর দশক ধরে নির্যাতনের শিকার। কাজেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে না গিয়ে মিয়ানমার এ ব্যাপারে লোক দেখানো কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও নজর রাখতে হবে। জাতিসংঘের মহাসচিব রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার প্রশ্নে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়ার পরও তাদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। কাজেই সংকটের সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও জোরালো পদক্ষেপ থাকতে হবে।

রাখাইন থেকে বাংলাদেশে ১০ লাখ রোহিঙ্গার প্রবেশে বেশ বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমনিতেই বাংলাদেশ জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ। তার ওপর এই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার প্রবেশ আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশের জন্য বিপর্যয় ডেকে এনেছে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশের দায় নেই। মানবতার খাতিরে বাংলাদেশ সরকার বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ এত বিপুলসংখ্যক মানুষের বোঝা বহন করা যে কোনো দেশের জন্যই কঠিন।

কাজেই রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফিরিয়ে নিতে হবে মিয়ানমারকে। কোনো অজুহাত দেখানোর সুযোগ নেই এখানে। বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর থাকতে হবে। দুই পক্ষের আলোচনা এবং জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রক্রিয়াকে সময় ক্ষেপণের কৌশল হিসেবে যেন মিয়ানমার ব্যবহার না করে সে দিকে সরকারের নজর রাখতে হবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ অক্টোবর ২০১৭/আলী নওশের/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop
 
   
Walton AC