ঢাকা, সোমবার, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-০৫ ৫:০৬:১৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-০৭ ৮:২১:৫২ এএম

ইয়াসিন হাসান : আবারও বিকেএসপিতে রানের ফুলঝুরি। আবারও আবাহনীর জয়গান। এবার উৎসব করল তারা। কেনই বা করবে না। এক মৌসুম পর যে মর্যাদার শিরোপা পুনরুদ্ধার করল ঐতিহ্যবাহী দলটি।

ঢাকা লিগের ঐতিহ্য মানেই আবাহনী-মোহামেডান। কিন্তু শেষ কয়েক মৌসুম ধরেই ক্লাব পাড়ায় নিজেদের দাপট দেখাতে পারছে না মোহামেডান। সেখানে আবাহনী একের পর এক শিরোপা জিতে নিজেদের নিয়ে যাচ্ছে অনন্য উচ্চতায়।

 



বৃহস্পতিবার আবাহনী ৯৪ রানের বিশাল ব্যবধানে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে হারিয়ে ঢাকা লিগের ১৯তম শিরোপা ঘরে তুলেছে। ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ২০১৭-১৮ মৌসুমের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট এখন আবাহনীর মাথায়। কাগজে কলমে সেরা দল গড়েছিল তারা। ফেবারিটের দল হিসেবে খেলেছে প্রতিটি ম্যাচ। ব্যাট-বলের দারুণ নৈপুণ্যে শেষ হাসিটাও হাসল তারা। মাশরাফি, নাসির, বিজয়, মিথুন, শান্তদের পারফরম্যান্সে শিরোপা জিততে কোনো বেগ পেতে হয়নি ক্লাবটিকে।

 



আজ জিতলেই শিরোপা। হারলেও শিরোপা পেত তারা। কারণ রান রেটে সবার থেকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে তারা। তবে ভয় ছিল হারলে। কারণ আরেক মাঠে শেখ জামাল জিতে গেলে এবং আবাহনী হেরে গেলে হেড টু হেডের হিসেবে শিরোপা উঠত শেখ জামালের হাতে। কিন্তু সেসব ঝুঁকিতে যায়নি মাশরাফি-নাসিররা।

 



আগে ব্যাটিং করে আবাহনী ৬ উইকেটে ৩৭৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে প্রাইম ব্যাংকের ইনিংস থেমে যায় ২৮০ রানে। ৯৪ রানের জয় আবাহনীর সমর্থকদের দিয়েছে বাড়তি আনন্দ, বাড়তি উল্লাস। তাইতো ঢাক-ঢোল পিটিয়ে শিরোপা উৎসব করেছে তারা। তাতে কিছুক্ষণের জন্য হলেও ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের পুরনো ঐতিহ্য ফিরে এসেছিল।

 



আবাহনী হয়ে ব্যাট হাতে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও নাসির হোসেন। শান্ত ১০৭ বলে ১১ চার ও ২ ছক্কায় করেন ১১৩ রান। আর নাসির হোসেন ৯১ বলে ১৫ চার ও ৪ ছক্কায় করেন ১২৯ রান। দুজন ১৮৭ রানের জুটি গড়েন চতুর্থ উইকেটে। তাতেই রানের পাহাড়ে আবাহনী।

 



বিকেএসপিতে আগের ম্যাচেই ৩৯৩ রান করেছিল তারা। আজ সেই রান টপকাতে না পারলেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেছে। তবে শুরুতে ও শেষ দিকে অবদান রাখেন বিজয় ও মাশরাফি। বিজয় ৫১ বলে করেন ৫৭ রান। শেষ দিকে মাশরাফি বিন মুর্তজা ৮ বলে ২৮ রান তুলে দলের স্কোর চূড়ায় নিয়ে যান।

 



লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর ঢাকা লিগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তুলে অনেকটাই নির্ভার ছিল আবাহনী। কিন্তু লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ জবাব ভালোই দিচ্ছিল। মোহাম্মদ নাইমের ৭০, মুশফিকুর রহিমের ৬৭ এবং নাঈম ইসলামের ৭৬ রানে লক্ষ্যের পথে ছিল তারা। কিন্তু মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর বড় স্কোর করতে পারেনি কেউ। তাতেই ৯৪ রানের বিশাল জয় পায় আবাহনী।

বল হাতে মেহেদী হাসান মিরাজ, সানজামুল ইসলাম, সন্দীপ রায় ও নাসির হোসেন ২টি করে উইকেট পেয়েছেন। মাশরাফির পকেটে গেছে ১টি উইকেট। লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর আবাহনীর হাতে উঠল দ্বিতীয় শিরোপা, সব মিলিয়ে ১৯তম। মাশরাফি দীর্ঘদিন পর পেলেন শিরোপার স্বাদ। ২০১০-১১ মৌসুমে মোহামেডানকে হারিয়ে মাশরাফি আবাহনীকে দিয়েছিল শিরোপা।

 



এবার অধিনায়কত্ব না করলেও শিরোপা জয়ে মাশরাফির অবদান সবথেকে বড়। ১৬ ম্যাচে ৩৯ উইকেট নিয়ে মাশরাফি এক মৌসুমে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। আর শান্ত চার সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন পুরো লিগে। ১৬ ম্যাচে তার রান ৭৪৯। বোলিংয়ে-ব্যাটিংয়ে দাপটই বলে দেয় আবাহনী শিরোপা জয়ের যোগ্য দাবিদার।

লিগে আজই প্রথম সেঞ্চুরি পেলেন আবাহনীর অধিনায়ক নাসির। শেষ ম্যাচে নিজের ব্যাটিং ঝলক দেখিয়ে নাসির দলকে শিরোপা এনে দিলেন। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচসেরাও নির্বাচিত হয়েছেন নাসির।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৫ এপ্রিল ২০১৮/ইয়াসিন

Walton Laptop
 
     
Walton